এবার দেশেই তৈরি হচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক মানের অনলাইন ওয়ার্ক মার্কেটপ্লেস, বিল্যান্সার। এর মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ অনলাইন ভিত্তিক কাজের ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে মত দেশিয় মার্কেট প্লেসের উদ্যোক্তাদের। তবে দেশের ফ্রিল্যান্সাররা মনে করছেন নিজস্ব মার্কেটপ্লেসের আগে দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সব থেকে বেশি জরুরি।
ফটোগ্রাফি, ছবি এডিটিং কিংবা লিখালিখি- বাদ নেই অনলাইনে কাজ করার কোন ক্ষেত্রই। কোন প্রতিষ্ঠানের অধীনে নয়, এসব ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবেই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছেন এ যুগের তরুণরা। আর প্রতিযোগিতার বাজার এ জন্য তাদের নির্ভর করতে হয় ওডেক্স-ইল্যান্স, ফ্রিল্যান্সার কিংবা ভিওয়ার্কারের মতো জনপ্রিয় অনলাইন মার্কেট প্লেসের ওপর। দেশিয় ফ্রিল্যান্সারদের জন্য তাই বিল্যান্সার নামে দেশেই তৈরি হচ্ছে সম্পূর্ণ নিজস্ব একটি মার্কেট প্লেস। যেখানে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন অনলাইন কাজের সুযোগ থাকবে।
বিল্যান্সারের উদ্যোক্তা মো. সফিউল আলম বলেন, 'বাংলাদেশে মার্কেট হলো ১৬০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এই মার্কেটকে ক্যাটার করার মতো কোনো একটি লোকাল মার্কেট প্লেস নেই। বিল্যান্সার ডট কম যখন প্রস্তাব করা হয়, তখন সরকার সর্বাত্মক সহায়তা করার একটি আশ্বাস দিয়েছেন।'
এদিকে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে অনলাইন ভিত্তিক কাজের গতি বাড়াতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থ লেনদেন পদ্ধতি উন্নত করা জরুরী বলে মত দেশিয় ফ্রিল্যান্সারদের। তাদের মতে, এই মুহূর্তে অবকাঠামো সুবিধাগুলোর দিকে মনোযোগ দেয়া উচিত। সেক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি কিভাবে আরও স্বচ্ছতার সাথে করা যায়, সেই বিষয়ে নজর দেয়া জরুরি।
প্রাথমিকভাবে দেশিয় বাজার ধরার পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল এমপ্লয়ারদের এই মার্কেটপ্লেসে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বিল্যান্সারের উদ্যোক্তাদের। এই বিষয়ে সফিউল আলম বলেন, আপাতত আমাদের পরিকল্পনা হলো বিদেশ থেকে যেই কাজগুলো আসবে সেগুলো বাংলাদেশি ফ্রিল্যন্সাররা করবে। এই মাসেই আমরা এটি ওপেন করে দিচ্ছি।'
তবে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজারে নিজেদের ব্র্যান্ডিং, নির্ভরযোগ্য কারিগরি সক্ষমতা, পেমেন্ট পদ্ধতি এবং সবার আস্থা ও আগ্রহ তৈরি করাই বিল্যান্সারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে। এমনটাই মত সংশ্লিষ্টদের।

No comments:
Post a Comment